এক নজরে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ

কলেজের নামঃ পটুয়াখালী সরকারি কলেজ
প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ
সরকারিকরণঃ ০১-০৫-১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
অবস্থানঃ পটুয়াখালী জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে
পাঠদানের পরিধিঃ উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স
আয়তনঃ ২৪.৬০ সহ¯্রাংশ
প্রশাসনিক ভবনঃ ১টি
একাডেমিক ভবনঃ ২টি
পরীক্ষা ও একাডেমিক ভবনঃ ১টি
ছাত্রাবাসঃ ১টি
ছাত্রী নিবাসঃ ১টি
ছাত্রী কমনরুমঃ ১টি
শ্রেণিকক্ষের সংখ্যাঃ ৩০ টি
গ্রন্থাগারঃ ১টি
শহীদ মিনারঃ ২টি
মুক্তমঞ্চঃ ১টি
ল্যাবরেটরিঃ ৮টি
কম্পিউটার ও আইসিটি ল্যাবঃ ২টি
এফএলটিসিঃ ১টি
বাগানঃ ৬টি
মোট বিভাগের সংখ্যাঃ ১৬টি
শিক্ষক সংখ্যাঃ ৬৭ জন
গ্রন্থাগারিকঃ ১ জন
প্রদর্শকঃ ৭টি পদ
শরীরচর্চা শিক্ষকঃ ১ জন
শিক্ষার্থী সংখ্যাঃ ১৫০০০ (প্রায়)
অফিস স্টাফ সংখ্যাঃ ৬৩ জন
প্রথম অধ্যক্ষঃ সৈয়দ আহম্মদ আলী
বর্তমান অধ্যক্ষঃ
যোগাযোগঃ www.patuakhaligovtcollege.org
Email: p.govt.college@gmail.com
Phone: 0441-62415

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ

পটুয়াখালীর কিছু কৃতী সন্তানের মেধা মননে-শ্রমে-ঘামে ১৯৫৭ সালে বর্তমান পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠে পটুয়াখালী কলেজ। পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৬০ সালে এ কলেজের ক্যাম্পাস পরিবর্তন হয়ে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের বিপরীতে ২৪ একর জমির উপর স্থাপিত হয় পটুয়াখালী কলেজ।
কলেজটির যোগ্য পরিচালনা, একাডেমিক কার্যক্রমের দক্ষতা, লেখাপড়ার সুখ্যাতি, উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক পর্যায়ের ফলাফল দৃষ্টি কাড়ে সদাশয় সরকারের। ১ মে ১৯৭০ পূর্ব পাকিস্তান সরকার কলেজটিকে প্রাদেশিকীকরণ (সরকারি) করেন। তখন থেকে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ অধিষ্ঠিত হয় এক নতুন মর্যাদায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার ব্রতে। কলেজটির বিজ্ঞানাগারকে পরিণত করে অস্ত্র ও গোলাবারুদের কারখানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অজানা ছিলনা এ কলেজের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে কথা। তাই ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাক বিমান বাহিনী গোলা বর্ষণ করে বিজ্ঞান ভবনের উপর, তছনছ হয়ে যায় সাজানো গোছানো বিজ্ঞান ভবন।

উচ্চ শিক্ষায় অনার্স ও মাষ্টার্স কোর্স চালু
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ বিধ্বস্ত অবকাঠামোয় দাঁড়ালেও খুঁজে পায় নতুন জীবনের স্পন্দন, স্বাধীনতার সুঘ্রাণ। একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষার ফলাফলে আনে কৃতিত্বের ছাপ। ১৯৭১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়ে বাংলা, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, রসায়ন এবং ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৯৮৬ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং তৎপরে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে চালু হয় অনার্স কোর্স। ১৯৯১ সালে এসব বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে ইংরেজি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা, দর্শন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, গণিত বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে পদার্থ বিজ্ঞান ব্যতীত সকল বিষয়ে চালু হয় মাস্টার্স কোর্স। কলেজটিতে ১৯৫৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা প্রবর্তিত হয়। ১৯৬২ সালে ¯œাতক (পাস) কোর্সে কলা, বাণিজ্য এবং ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান কোর্স চালু করা হয়। মাস্টার্স ১ম পর্বে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে এ কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স শেষবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রাণময় করে রেখেছে কলেজকে।

কলেজের অবকাঠামো
১৯৬০ সালে বর্তমান ক্যাম্পাসে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর নির্মিত কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান এবং লাইব্রেরি ভবনের আজ আর অস্তিত্ব নেই। ১৯৯৩ সালে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর আ.ম. আজিজুর রহমান খান মন্ত্রণালয় থেকে কলেজের জন্য যথোপযুক্ত একটি মাস্টার প্লান পাস করিয়ে আনেন। তারই প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ৪ তলা বিশিষ্ট কলা ভবন ও ৩ তলা বিশিষ্ট বাণিজ্য ভবন। একাডেমিক কাম পরীক্ষা ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্তি পথে। বিজ্ঞান ভবনের কাজ শীঘ্র শুরু হবে।

মাস্টারপ্লান অনুযায়ী লাইব্রেরি ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বাসভবন, শিক্ষকদের পারিবারিক আবাসন, অস্থানীয় শিক্ষকদের জন্য ডরমিটরি, ক্যান্টিন, ব্যায়ামাগার, মেডিকেল সেন্টার, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কমনরুম সুবিধাও আগামীতে তৈরি হবে।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এ জেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উচ্চ শিক্ষার একমাত্র অবলম্বন। দক্ষিণে কলাপাড়া-আমতলী পূর্বে গলাচিপা, পশ্চিমে মির্জাগঞ্জ ও পায়রা কুঞ্জের তীর এবং উত্তরে বাকেরগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী দৈনন্দিন আসে শ্রেণি কার্যক্রমে। এখানে আম, জাম, নারিকেল, কদুলী শাখে শাখে দোল খায়, রেন্ট্রি-মেহগণি গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে রোদের ঝিলিক, দীঘি তুল্য দুটি পুকুর নদীর মতো ঢেউ জাগায় এখানে। কলেজ ক্যাম্পাসে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি পাস, অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ছাত্রাবাস। মুনসেফ পাড়ায় ০.৬০ একর জমির উপর এমদাদ আলী ছাত্রীনিবাস নামে ৮৮ আসন বিশিষ্ট একটি আবাসন আছে। ত্রি-তলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার একটি নতুন ভবনের কাজ সমাপ্তির পথে। কলেজে বিএনসিসি সেনা ও নৌ শাখা, রোভার, রেঞ্জার ও যুব রেড ক্রিসেন্ট দলে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাডেট হিসেবে অংশগ্রহণ করে। সামরিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হয়ে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দ্বিতীয় সারির সৈনিক হিসেবে প্রস্তুত থাকে। জ্ঞান-শৃঙ্খলা একতার মূল মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা ও অধ্যক্ষকে স্যালুট প্রদান করে। বার্ষিক ক্রীড়ায় তাদের মার্চপাস্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করে সকলের। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচিতে তারা অংশগ্রহণ করে।

কলেজে বিভিন্ন বিভাগে যেমন ট্যালেন্ট শিক্ষার্থী আছে তেমনি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও আছে নাম করা শিল্পী। ১৯৯৪ সালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সব নবীন শিল্পী, লিখিয়েদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ‘নন্দন’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সংগঠন কলেজ, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। এছাড়া শেখ রাসেল বøাড ডোনেশন ক্লাব ও ‘মৃন্ময়ী’ নামে মানবিক সংগঠন ও এখানে সক্রিয় রয়েছে।

বর্তমানে এ কলেজ তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে। কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অনলাইন ব্যবহারে অবসান হচ্ছে দীর্ঘ সূত্রিতার। অনেকগুলো শ্রেণিকক্ষ মাল্টি মিডিয়ার আওতায় এসেছে। ঋখঞঈ এর সহায়তায় প্রশাসনিক ভবনে রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষক, কর্মচারী ও বাইরের প্রশিক্ষণার্থীরা কম্পিউটার নানামুখী ব্যবহার শিখে নিজেকে তৈরি করেছেন দক্ষ মানব সম্পদরূপে। এখন কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও বহিরাঙ্গনের কিছু এলাকা ও ভবনেরসমূহের করিডোর সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি জমা দিচ্ছে শিউরক্যাশে। টগবগে শিক্ষার্থীর পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখরিত হোক এ প্রত্যাশা করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পতাকা সমুন্নত রাখুক পটুয়াখালী সরকারি কলেজ। উল্লেখ্য ১৯৮৭ সালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে পুরস্কৃত হয়।